Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আইন অনুযায়ী সরাসরি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তার যেসব মামলা বিচারাধীন বা যেসব ক্ষেত্রে রায় হয়েছে, তা তার নির্বাচনী প্রার্থীতা বাতিল করার মতো পর্যায়ে নেই। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের হাতে।"

তিনি আরও বলেন, "সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) ধারা অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য। তবে যদি কোনো ব্যক্তি আপিল বা রিভিউ চলাকালে আদালত থেকে দণ্ড স্থগিত আদেশ পান, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। বেগম খালেদা জিয়া আপাতত এই ধারা থেকে উপকৃত হতে পারেন।"

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন এবং সরকার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এটি দলটির সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ যোগাবে এবং নির্বাচনের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, "কোনো ব্যক্তির প্রার্থিতা বৈধ বা অবৈধ বলে ঘোষণা করা হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে যদি কোনো আবেদন আসে, সেটি আইন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।"

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারেননি। তবে এবার তার আইনজীবীরা দাবি করছেন, দণ্ড স্থগিত এবং আইনানুগ অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য।

এই প্রসঙ্গে সাধারণ জনগণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটি গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন এটি নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ